সারাদিন এনার্জেটিক ও চনমনে থাকবার ৮টি উপায়

কাল রাতেই আজকের সবা কাজের পরিকল্পনা করে রেখেছেন? আপনি আর আগের মত অলস সময় কাটাতে চান না? আজকেই সেই সকল পরিবর্তনগুলো শুরু করবেন? আমি জানি আপনি অনেক প্রোডাক্টিভ হবেন ভেবে নিজেই অনেককিছু নির্ধারণ করে রেখেছেন। কিন্তু আসলে এমনটি হবে না। আপনার সারা দিনের ক্লান্তি সকল চিন্তায় পানি ঢেলে দিবে। আপনি শুধু বাসায় বসে আপনার পছন্দের সিরিয়াল দেখে বা সকল দায়িত্বগুলোকে এড়িয়ে যাবেন।

সবথেকে বিরক্তিকর হল আপনি জানেন আপনার কি করা উচিত কিন্তু এগুলো করতে না পারলে যে আপনাকে অনুশোচনায় ভুগতে হবে তা জেনেও কিছু অজানা কারনে আপনাকে সারাদিন অবসর সময় কাটাতে হবে। আপনার বার বার মনে হবে, “কেন আমি এরকম?”

আপনি দুর্বলতায় ভুগছেন। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই কারন, এখানে কিছু কাজের লিস্ট করা হয়েছে যা করলে আপনি সারাদিন চাঙ্গা থাকবেন।

১। যখন ঘুম থেকে জাগবেন

ঘুম থেকে জেগে সময় দেখে আবার ঘুমিয়ে পড়া। আপনি সাধারনত তাই করে থাকেন। এটি পরিবর্তন করতে হবে। যখন আপনি টের পাবেন আপনি ঘুম থেকে জেগেছেন এবং সকাল হয়েছে তখনই বিছানা ত্যাগ করুন। তারপর ঠাণ্ডা কিংবা গরম পানি দিয়ে গোসল করুন।

বৈজ্ঞানিক ধারনা মতে, এটি আপনার শরীরের সাথে দিনের সময়ের সিঙ্ক ঘটাবে। এটি আপনাকে মনে করিয়ে দিবে যখন দিনের আলো ফুটবে তখন আপনার ঘুম থেকে জাগার সময়। এবং যখন সূর্যের আলো থাকবে না বা রাত হবে তখন আপনার ঘুমের সময়।

বিজ্ঞানীরা ধারনা করে থাকেন, আপনি যখন অনিয়মিত ঘুম দিবেন তখন খুব বেশি সম্ভাবনা থাকবে যে আপনি দিনে ক্লান্ত হয়ে যাবেন। বিশেষভাবে যখন আপনার প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে জাগতে হবে।

২। আপনি কি খাচ্ছেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

প্রচুর পরিমানে কার্বোহাইড্রেট খান যা আপনাকে প্রচুর শক্তি জোগাবে। যদিও কার্বোহাইড্রেট গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু খুব বেশি নয়। মনে রাখবেন বেশি কার্বোহাইড্রেট আপনার শক্তি কমিয়েও ফেলতে পারে।

বেশি করে প্রোটিন জাতীয় খাবার খান। আস্ত শস্যদানা আরো ভালো খাবার যেমন, সকালের নাস্তায় আপনি এক টুকরা রুটি, বেকন, চীজ এবং এক গ্লাস দুধ পান করতে পারেন।

দুপুর এবং রাতের খাবারের সময় কিছুটা সবজি, প্রোটিন জাতীয় খাবার এবং কার্বোহাইড্রেট খান।

৩।  সঠিক সময়ে কফি পান করুন

সাধারণত সকালের নাস্তার পর আমরা কফি পান করে থাকি কিন্তু যদি আসলে আপনি কফির শক্তিকে কাজে লাগাতে চান তাহলে পরে যে কোন সময় কফি পান করুন। কাফেইন আপনাকে সারাদিন ঘুম থেকে দূরে রাখবে। দুপুরে যখন আপনার প্রচুর ঘুম পাবে তখন কাফেইন কাজ করা বন্ধ করে দিবে যদি আপনি সকালে কফি পান করে থাকেন।

গবেষণা মতে, যখন আপনি কফি পান করে থাকেন কিংবা কফিতে যে পরিমান কাফেইন থাকে সেই পরিমান কাফেইন জাতীয় পানীয় পান করে থাকেন তখন আপনার ঘুম পাবে না। সব থেকে ভালো হবে যদি দুপুরে কফি পান করে থাকেন এতে আপনাকে রাতে ঘুমাতে কষ্ট করতে হবে না।

৪। খাবারের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ

ঘুম থেকে জেগে উঠার মত আপনি কখন খাবার খাচ্ছেন তাও গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন সকাল ৬ তাই সকালের নাস্তা খেয়ে অভ্যস্ত তখন সকাল ১১ টায় নাস্তা খেলে এক ধরনের পার্থক্য বুঝতে পারবেন। সঠিক সময়ে খাবার না খেলে আপনি বেশি ক্ষুধার্ত অনুভব করবেন এবং বেশি খেতে পারবেন এতে করে আপনি ক্লান্ত অনুভব করবেন। আপনি কি খাবার খাবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন এতে করে আপনি সঠিক সময়ে খাবার খাতে পারবেন।

৫। বিশ্রাম করুন

যদি আজ সারাদিন আপনি অনেক ধকল সহ্য করে থাকেন তাহলে হয়তো কাল সারাদিন ছুটি নেবার কথা ভাবছেন যদিও অনেক কাজ জমে আছে।

যখন আপনি অনেক বেশি ক্লান্ত তখন মাঝে মাঝে একটু বিরতি নিন। পড়ালেখা করছেন? ৫ মিনিটের বিরতি নিন। সারাদিন কাজ করছেন? অল্প সময়ের জন্য বিরতি নিন। হয়তো একটু খোলা বাতাসে বেরিয়ে আসুন এবং ক্লান্তিকে দূরে সরিয়ে আবার কাজ করতে বসুন। কাজের ফাঁকে একটু বিরতি নিলে আপনি ক্লান্তি থেকে রক্ষা পাবেন এবং সারাদিন কাজ করতে পারবেন। সারাদিন অপ্রয়োজনীয় কাজ করার থেকে একটু বিরতি নিয়ে ভালোভাবে কাজ শেষ করুন।

৬। পাওয়ার ন্যাপ থেকে বিরত থাকুন

সবসময় পাওয়ার ন্যাপ কার্যকরী নয়। যখন মাঝে মাঝে দুপুরে পাওয়ার ন্যাপ নিয়ে থাকেন তখন আপনার আরও দুর্বল মনে হবে। মনে হবে সারাদিন ঘুমিয়েছেন। কিছুটা এনার্জি পেতে অফিসের আশেপাশে একটু হাঁটাহাঁটি করুন অথবা বর্তমান আপডেট পেতে মুঠোফোন নিয়ে বসুন। এতে করে আপনি আগের থেকে বেশি এনার্জি পাবেন। মনে রাখবেন, কখন আপনার বিরতি নেয়া বন্ধ করতে হবে কারন এতে আপনার অনেক সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ভারসাম্য রেখে কাজ করুন যাতে করে সারাদিন ক্লান্তি থেকে দূরে সরে এনার্জি নিয়ে কাজ করতে পারেন।

৭। মেজাজ ফুরফুরে করতে ভাল গান শুনুন

ঘুম পাচ্ছে? যে কোন কাজ করতেই ক্লান্ত অনুভব করছেন? কাজের সময়ের জন্য একটি প্লেলিস্ট তৈরি করুন এবং কাজ করবেন বলে সংকল্প করুন। তারপর হেডফোন লাগিয়ে কাজে শুরু করুন। আপনার পছন্দের গান না হলে আপনাকে সারাদিন অনেক কষ্ট করে কাজ করতে হবে তাই আপনার পছন্দ মত প্লেলিস্ট তৈরি করে নিন।

৮। ঘুমানোর আগে যা করবেন

ঘুমানোর আগে আমরা যা করে থাকি তা হল আমাদের মোবাইল ফোন নিয়ে বসে থাকি। গবেষণা মতে, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এর আলো আপনার শরীরের ক্ষতি করে থাকে। খুব বেশি কাছে থাকার কারনে এইসব আলো আমাদের শরীরের ক্ষতি করে থাকে। এটি আপনার ব্রেইনকে রেস্ট না দিয়ে বরং জাগিয়ে রাখবে।

একটি বই পড়ার চেষ্টা করুন। একটি আসল বই, মুঠোফোনে ই-বই নয়। অথবা শুয়ে থাকুন যা আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবে। এতে করে আপনি দুর্বল হবেন না এবং সকালে সময়মত ঘুম থেকে জাগতে পারবেন।

 

Sources:

http://www.health.com/health/gallery/0,,20653367,00.html#work-in-chunks-0

https://www.prevention.com/health/sleep-energy/8-solutions-all-day-energy

https://pixabay.com/

https://www.pexels.com/

https://www.flickr.com/

এখনও কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।