সারাদিনের পারিবারিক কর্মকাণ্ড

মনে পড়ে কিভাবে ছোটবেলায় আমরা আমাদের বন্ধুদের সাথে খেলা করতাম এবং সারা শরীর নোংরা করতাম বিশেষত আমাদের গোড়ালি? আমাদের ওই সময় এত টেকনোলোজি ছিল না তাই আমার বোরিং সময় কাটানোর জন্য অনেক আনন্দ করতাম।কিন্তু এখনকার বাচ্চারা টেলিভিশন, আইপড, কনসোল গেম এবং ইন্টারনেট এর কারনে ওই আনন্দ করতে পারে না। তারা এইসব কারনে এখন আর বাইরে যেতে পারে না, সারাদিন মুখের সামনে একটা ছোট্ট স্ক্রিন নিয়ে বসে থাকে।

এটা তাদেরকে ভিডিও গেমের প্রতি আসক্ত করে ফেলছে যা তাদের জন্য ক্ষতিকর। বাবা মায়ের তাদের সন্তানদের এইসব কাজ কর্ম বন্ধ করে বাইরে খেলতে পাঠানো উচিত। বাইরে খেলাধুলার ফলে তাদের মানসিক এবং শারীরিক বিকাশ বৃদ্ধি পাবে।

কিছু মজার কাজ যা আপনি সন্তানদের সাথে উপভোগ করতে পারেন।

১। বাইরের খেলাধূলায় উৎসাহিত করা

অনেক খেলা রয়েছে যা আপনি আপনার বাচ্চাদের সাথে বাইরে খেলতে পারেন যেমন ব্যাডমিন্টন, ফ্রিসবি, ভলিবল এবং আরও অনেক দলীয় খেলা। এইসব খেলার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে হেরে গেলে কিভাবে নিজেকে সামলে নিতে হবে এই সম্বন্ধে ধারনা দিতে পারেন। তাদেরকে শিক্ষা দিন কিভাবে দলীয়ভাবে খেলতে হয় এবং হেরে যাওয়া একটি সাধারন ব্যাপার, এখানে মজাটাই আসল।

২। আলো বাতাসে সময় কাটান

বাড়ির পিছনে খেলাধুলা আর প্রাকৃতিক পরিবেশে খেলাধুলা সম্পূর্ণ আলাদা। আপনার সন্তানদেরকে দুঃসাহসিক অভিযানে পাঠান, হাইকিং কিংবা ক্যাম্পফায়ার করে তাদেরকে মজাদার খাবার রান্না করে খাওয়ান আর গল্প শোনান যা তাদেরকে আপনাদের আরো কাছে নিয়ে আসবে।

৩। তাদেরকে রান্না শেখান।

একসাথে রান্না তাদের সৃজনশক্তি বৃদ্ধি করবে। যাই হোক না কেনও সেটা আইস্ক্রিম, বিস্কুট, বার্গার বা অন্য কিছু। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন কি ধরনে সস বা ফ্রস্টিং ব্যবহার করতে চায়। হতে পারে এই উদ্যোগ আপনার সন্তানকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শেফ হতে সাহায্য করতে পারে।

৪। গাছ লাগাতে উৎসাহী করুন

তাদেরকে জানান কিভাবে একটি গাছের যত্ন নিতে হয় । আপনি তাদেরকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগান যেমন সূর্যমুখী অথবা যে কোন ধরনের সব্জি। এটি তাদের সাহায্য করবে এটি বুঝতে যে কিভাবে একটি গাছ একটু সুন্দর সৃষ্টিতে পরিনত হয়।

৫। নতুন কিছু শেখান।  

হয়তো আপনার সন্তান খুব তাড়াতাড়ি একজন রকস্টার হয়ে উঠবে, তাই তাকে গীটার শেখাতে পারেন। আপনার পছন্দের একটি গান গেয়ে আপনার সন্তানকে উৎসাহী করতে পারেন যা আপনাদের বন্ধনকে আরো মজার করবে। অথবা আপনি তাকে ভায়োলিন, পিয়ানো বা অন্য যে কোন ধরনের বাদ্যযন্ত্র শেখাতে পারেন। যদি বাদ্যযন্ত্র না হয় তবে নতুন কোন ভাষা শেখাতে পারেন। হতে পারে আপনার সন্তান একজন ভাষাবিদ হয়ে উঠবে।

৬। শহর ঘুরে ঘুরে মজার কিছু দেখুন

এতে কোন সন্দেহ নেই যে শহরে নানা ধরনের আনন্দদায়ক উপকরন থাকবে। বাইরে গিয়ে মুভি দেখুন অথবা কোন জাদুঘরে ঘুরতে জান কিংবা চিড়িয়াখানা বা কোন কনসার্টে যেতে পারেন।

এই ধরনে কাজগুলো বলে শেষ করা যাবে না। আপনার অবসর সময়গুলো সাওন্তান্দের সাথে কাটান যাতে তাদের মানসিক বিকাশ ঘটে।

 

বিঃ দ্রঃ এই ধরনের কাজগুলো শুধু আপনার পরিবারের সম্পক্রগুলই নয় বরং আপনার সন্তানের মানসিক বিকাশ ও বৃদ্ধি পাবে।গবেষণামতে, এইখানে কিছু স্বাস্থ্যসুবিধা তুলে ধরা হল,

  • চোখের ক্ষতি হতে রক্ষা করে। প্রতিবার বাইরে খেলতে গেলে আপনার সন্তানের মায়োপিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করে।
  • তাদেরকে বন্ধুত্বসুলভ আচরন সেখান। এতে তাদের সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাদের বন্ধু বাড়বে এবং তাদের আচরন ভালো হবে।
  • এডিএইচডি হওয়া থেকে বাঁচাবে। বাইরে খেলাধুলা তাদের মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • ধকল কমায়। হ্যাঁ, ছোট বাচ্চারাও নান ধরনের ধকলের স্বীকার হয়। বাইরে খেলাধুলা তাদেরকে এই ধরনের ধকল কমাতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন ডি এর পরিমান বাড়াতে সাহায্য করে। সূর্যের আলো তাদের ভিটামিন ডি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে তবে মনে রাখতে হবে অধিক সূর্যরশ্মি তাদের জন্য ক্ষতিকর।

এখনও কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।