যে ৭ টি জিনিস প্রত্যেক নারীর জানা উচিত

প্রতিটি কিশোরী মেয়েই একধরনের দ্বিধায় ভুগে থাকে। তারা নানা ধরনের সামাজিক বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠে। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, পড়াশুনা এইসব কিছু নিয়ে তারা একধরনের চাপের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে। এগুলো ঝেড়ে ফেলে দিয়ে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করার কিছু নিয়ম রয়েছে যেখানে অন্য মানুষের কটূক্তির কথা চিন্তা না করেই আপনি ভাল থাকতে পারবেন। এই ৭ টি জিনিস আপনাকে একটি সুখী জীবনযাপন করতে সাহায্য করবে।

 ১। পিতামাতার উপদেশ মানুন

কিশোরী মেয়ে হিসেবে আমরা অনেক সময় কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেবার জন্য আমাদের সবসময় নিজেদের উপর নির্ভর করে থাকতে হয় না বরং আমাদের পিতামাতা আমাদের সাহায্য করতে পারে। পিতামাতাকে এই সিদ্ধান্তগুলো নিতে দিন এবং এগুলোকে অনুসরন করুন। মনে রাখবেন, আমাদের পিতামাতা আমাদের থেকে ভাল জানেন এবং তারা চান সন্তানেরা যেন ভাল থাকে। একটি কথা প্রচলিত আছে যে,” বড়দের উপদেশ শুনুন, কারন এই নয় যে তারা সবসময় সঠিক বরং তারা আমাদের থেকে বেশি ভুল করে শিখে এসেছে।” এর মানে এই যে, তারা আমাদের থেকে বেশি জানে এবং জীবন থেকে অনেক বেশি শিখেছে।

২। বাচ্চাদের মত আচরন বন্ধ করুন

কিছু কিশোরী মেয়েরা ইচ্ছে করেই বাচ্চাদের মত আচরন করে এটা ভেবে যে তাদের দেখতে চালাক মনে হয়। এই ধরনের আচরন বন্ধ করুন। বোকাদের মত আচরন মোটেও বুদ্ধিমানের মত দেখায় না। যদি এটা স্বাভাবিকভাবে হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি আলাদা। যদি কাউকে  দেখানোর জন্য এমনটি করে থাকেন তাহলে এখনই সময় এটি বন্ধ করার। মাঝে মাঝে এরকম বাচ্চাদের মত আচরন ভাল লাগে কিন্তু সবসময় না।

 

৩। বিরক্তিকর মানুষ থেকে দূরে থাকুন

এটি আমাদের জন্য খুবই সাধারন ঘটনা যে আমাদের জীবনে অনেক বন্ধু আসে এবং নানা কারনে তারা চলেও যায়। যদিও আমরা একা থাকতে পারি না কিন্তু এটিও নিশ্চিত করে বলতে পারি না যে তাদের সাথেই সারাজীবন থাকবো। কেউ খুবই ব্যক্তিগত কারনে আলাদা হয়ে যায়, কেউবা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় কিংবা ভুল বোঝাবুঝির কারনে কেউ কেউ  বন্ধুত্ব নষ্ট করে ফেলে। এগুলোই হচ্ছে বিরক্তিকর বন্ধুত্ব তৈরির কারন। কিন্তু আমরা কি জানি তারা আসলে বিরক্তিকর ? অনেকে বিরক্তিকর কারন হয়ে দাড়ায় কারন সে আপনাকে নৈতিক সমর্থন না দেয় অথবা সে যদি সবসময় আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় অথবা যদি আপনার প্রয়োজনের সময় আপনার পাশে না থাকে। এরকম হলে দেরি না করে তাদেরকে ত্যাগ করুন। এমন কাউকে খুঁজে বের করুন যিনি আপনার উপযুক্ত এবং আপনাকে আপনার মত করে জীবনযাপনে সাহায্য করবে।

৪। সত্যিকারের বন্ধু খুঁজে বের করুন

যখন আপনি ওইসব বিরক্তিকর মানুষ থেকে দূরে চলে গেছেন তখন সত্যিকারের বন্ধু খুঁজে বের করুন। গবেষণা মতে, অনেক বেশি বন্ধু থাকা অস্বাস্থ্যকর যা অনেক সময়  বিরক্তির কারন হয়ে যায়। ২/৩ ভাল বন্ধু থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ যাদের সাথে আপনি খুব গোপন কথাও শেয়ার করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকেও সৎ থাকতে হবে। পারস্পারিক বোঝাপড়াই একটি সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করতে পারে এবং একজন সৎ বন্ধুই পারে আপনাকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দিতে।

৫। নিজের সৌন্দর্য খুঁজে বের করুন

প্রত্যেকটি মেয়েই নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। অনেকক্ষেত্রেই মেয়েরা সমাজের মানদণ্ড মেনে চলার জন্য অনেক সময় এবং টাকা খরচ করে। যদিও আমরা তাদের দোষারোপ করতে পারি না কারন মিডিয়াগুলো তাদেরকে প্রভাবিত করছে। অনেকেই প্লাস্টিক সার্জারি করে তাদের সৌন্দর্য বর্ধন করার চেষ্টা করে কিন্তু তাদের উচিত নিজেদেরকে ভাল করে জানা এবং ভালবাসা। আমাদের এই ধরনের কাজের জন্য আর কেউ নয় বরং আমরা নিজেরাই দায়ী। আমাদের সমাজের আমাদেরকে দেখিয়ে দেয়া উচিত নয় যে সৌন্দর্য কি।

৬। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিন।

আমরা সকলেই জানি, “মানুষ মাত্রই ভুল করে”  আমাদের প্রতিদিনের জীবনে আমরা ছোট বড় অনেক ভুল করতেই থাকি। এইসব ভুলই আমাদের মানুষ হতে সাহায্য করে। ভুল করার পর এগুলো সমাধান করার অনেক উপায় থাকে । কেউ উপেক্ষা করে, ভুলে যায় আবার কেউ কেউ এই ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। একজন নারী হিসেবে এগুলো থেকে শিক্ষা নেয়া আমাদের জন্য  চ্যালেঞ্জ।  আমরা সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন কোন ভুল না করে একটি আরামদায়ক অবস্থায় থাকতে পারি। কিন্তু যদি আমরা একটু গভীরভাবে চিন্তা করি তাহলে দেখতে পারব যে এইসব ভুল থেকেই আমরা সবসময় ভাল শিক্ষাগুলো পেয়ে থাকি। এটি আমাদেরকে এমন শিক্ষা দিবে যা সাফল্যও আমাদের দিতে পারবে না।

৭। নিজের গুরুত্ব বুঝুন

মানুষ হিসেবে আমরা জীবনে প্রচুর ধাক্কা খেয়েছি যা আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এইসব ক্ষেত্রে, অভিজ্ঞতাকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করবেন না। উঠে দাঁড়ান এবং আপনার জায়গাটি নিয়ে ভাবুন। কখনো নিজেকে ছোট করে দেখবেন না। আমি আগেই বলেছি, আমরা সকলেই ভুল করে থাকি কিন্তু তাতে দমে গেলে চলবে না। বরং এখান থেকে শিক্ষা নিন এবং ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে  নিজেকে প্রস্তুত করুন এবং যে কোন সমস্যায় ভেঙে না পড়ে সামনে এগিয়ে যেতে প্রত্যয়ী হোন

Reference

50 Tiny Things Every 20-Something Needs To Realize

The 10 giveaway signs of a toxic person – and how to handle them

এখনও কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।