প্রোডাকটিভ জীবন যাপনের নিয়মাবলিঃ মিলেনিয়ালস

আমাদের প্রায়ই আমাদের মুঠোফোন এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো নিয়ে সময় কাটাই। গবেষণায় বলা হয়,  ৩,৪,৫ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবাহার আমাদের জন্য সাধারন ঘটনা।  এটি ভীতিকর যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো আমাদের নেশায় আসক্ত করে ফেলছে এবং আমাদের প্রচুর সময় নষ্ট করছে। এই ধরনের জীবন যাপন অপ্রয়োজনীয় এবং অস্বাস্থ্যকর। তাই আমি মনে করি, আমরা কিভাবে প্রয়োজনীয় কাজ করবো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করবো?

imagae source: http://www.pexels.com

এখানে কিছু নির্দেশনা দেয়া হল কিভাবে প্রোডাকটিভ জীবনযাপন করা যায়!

১। প্রতিদিন ব্যায়াম করা

image source: www.pexels.com

যেহেতু আমরা যুবক, আমাদের উচিত শারীর সক্রিয় রাখার সুযোগ গ্রহন করা। আমরা জানি যে বয়স বাড়লে শারীরিক অবস্থা দুর্বল হয়। আমাদের চেষ্টা করা উচিত যাতে আমরা সুস্থ থাকি এবং সুখী জীবনযাপন করি। কিছু সাধারন ব্যায়াম রয়েছে যা ৫-১৫ মিনিটে সহজেই করে ফেলা সম্ভব যা আপনার নিজের উপর নির্ভর করবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি পেটের ব্যায়াম করার চেষ্টা করি এমনকি স্ট্রেচিং, সিট-আপস, সাইক্লিং ক্রাংচেস এবং প্লাঙ্কিং ও করে থাকি। এই পুরো প্রক্রিয়া প্রতিদিন সকালে ৫-১৫ মিনিট সময় নেয়। অবশ্যই প্রথমবার অনেক কষ্ট হবে কিন্তু আস্তে আস্তে যখন আপনি অভ্যস্ত হয়ে যাবেন তখন আপনার সকালটি ভালোভাবে শুরু হবে। এটি শুধুমাত্র আপনার শারীরিক সক্ষমতাই বাড়াবে না বরং আত্মনির্ভরশীল এবং উদ্যমী করবে সারাদিন।
 ৫ মিনিট  DIY এর উদাহরনঃ

image source: www.pinterest.com


২। গৃহস্থালির কাজ করুন
সর্বদা মনে রাখবেন যে, একটি সুন্দর পরিবেশ একটি সুন্দর মন উদ্দীপ্ত করে। এটি আমাদের জন্য অবচেতন মনে হতে পারে তবে মনঃবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, পরিবেশ কাজের প্রতিফলন ঘটায়। যদি আমরা একটি সুন্দর প্রতিষ্ঠানে কাজ করি তাহলে আমরা বেশি কাজ্জ করতে পারব অথবা ভালো মনে কাজ করতে পারব। অপরদিকে, নোংরা পরিবেশ আমাদেরকে বিপরীত দিকে নিয়ে যেতে পারে যা আমাদেরকে অলসে পরিনত করবে এবং আমাদের মাথা গরম হয়ে যাবে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা যা আমাদেরকে ব্যস্ত রাখবে, মনে শান্তি দিবে এবং আপনার পিতামাতাকে খুশি রাখবে।

www.pexels.com


৩।পরিকল্পনা গুছিয়ে রাখুন 
যখন আপনার আশপাশ পরিষ্কার তারপর আপনার পরিকল্পনাগুল গুছিয়ে তালিকা করুন। আপনার দিনের, মাসের বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুল লিস্ট করে ফেলুন। সেক্ষেত্রে আপনার কাজগুলো ভুলে যাবেন না, এবং টু-ডু-লিস্ট এবং নোটগুলো আপানাকে উৎসাহিত করবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, পরিকল্পনা করার সুফল অনেক। এটি আমাকে ভবিষ্যৎ কাজগুলো ঠিকমত করার অনুপ্রেরনা দেয় এবং কাজগুলো সঠিকভাবে করতে আহাজ্জ করে। গুছিয়ে রাখা মানে আপনি আপনার লক্ষ্যের দিকে এক ধাপ এগিয়ে আছেন।

www.pexels.com

৪। জার্নাল লিখা 

 আরেকটি প্রোডাকটিভ কাজ হল জার্নাল লিখা। এটি আপনার পছন্দ মত যে কোন ধরনের লেখা হতে পারে। আপনি আপনার লেখায় আপনার মতবাদ তুলে ধরতে পারেন। এটি করার মাধ্যমে আপনার মনের অসাধারন পরিবরতন হতে পারে। আপনার মনে ভাবনাকে লেখায় রুপান্তিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আনন্দ পাবার পাশাপাশি লেখা অন্য মানুষের সাথে যোগাযোগের একটি অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। এটি গৎবাঁধা মনে হতে পারে কিন্তু ইমেইল বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লেখার চেয়ে কারো কাছে চিঠি লিখাটা অনেক বেশি প্রশংসার দাবি রাখে।

 ৫। নিয়মিত পড়াশুনা করুন

www.pexels.com

এটি কারো কারো কাছে কঠিন মনে হতে পারে কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত পড়ালেখা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি স্কুলে যা শিখে আসবেন টা যেন স্কুলেই থেকে না যায়।  আপনার চেতনাকে বাড়িয়ে তুলুন। স্কুল বা শিক্ষকের উপর নির্ভর করে থাকবেন না। মাঝে মাঝে নিজে থেকেই কিছু কাজ করুন এবং স্কুলের পড়া আগে থেকেই শেষ করে রাখুন। যখন কিছুই করার থাকবে না তখন মোবাইল ফোন নিয়ে না বসে থেকে একটি বই নিয়ে বসুন। অনেক তথ্য জানার আছে। নিজেকে গ্যাজেট থেকে দূরে রেখে এইসব তথ্য জেনে নিন।


৬। প্রবন্ধ পড়ুন

www.pexels.com

 একাডেমিক বই পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রবন্ধ পড়ুন। এইসব প্রবন্ধ আপনার চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটাবে। আপনাকে সাহায্য করবে বিশ্ব সম্বন্ধে জানতে। আমি পছন্দ করি ভূতের গল্প, সাসপেন্স এবং রহস্যময় প্রবন্ধ পড়তে। পড়ার মাধ্যমে আপনি এমন সব অভিজ্ঞতা পাবেন না আর কোথাও পাবেন না। এইসব পড়াশুনা আপনাকে এমন জাইগায় নিয়ে যাবে যার মূল্য টাকা দিয়ে পরিমান করা যাবে না।

৭। পরিবারের সাথে সময় কাটান

www.pexels.com

পরিবারের সাথে সময় কাটানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি সম্ভব হয় তাহলে পরিবারের মানুষের সাথে কথা না বলে একটি দিনও পার করবেন না। আপনার বাব মার সাথে কথা বলুন, বাসার ছোটদের সাথে খেলাধুলা করুন এবং হাসিতামাশা করুন এতে আপনার সাথে পরিবারের মানুষের সম্পর্ক আরও ভাল হবে। দিনশেষে আপনার পাশে যখন কেও থাকবে না তখন আপনাকে সহযোগিতা করার জন্য তারাই আপনার পাশে থাকবে। তাদেরকে অগ্রাধিকারের তালিকায় সবার আগে রাখুন।

৮। বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখুন

www.pexels.com

 পরিবারের পাশাপাশি বন্ধুদের সাথেও যোগাযোগ রাখুন। এটি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আপনার বন্ধুদের বিশ্বাস করেন। মনস্তত্ত্বিক গবেষণা মতে, বেশি বন্ধু থাকা মানে আপনার জীবন অনেক বেশি আনন্দের এবং এটি আপনার দুশ্চিন্তা কমিয়ে দিবে। এমনি বন্ধুরা দুশ্চিন্তার সময়েও আপনাকে মজা করতে সাহায্য করবে।

৯। ব্যক্তিগত সময়

www.pexels.com

 

 ব্যক্তিগত সময় হল যখন আপনি নিজের জন্য সময় আলাদা করে রাখেন। যখন আপনি নিজের ইচ্ছা মত কাজ করতে পারেন যেমন মুভি দেখেন, খাওয়া দাওয়া করেন কিংবা আপনার পছন্দ  মত যে কোন কাজ করেন। মনে রাখবেন, আমরা যা ই করি না কেন এই ব্যক্তিগত সময় আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দুর্বলতা কাতিয়ে উঠে নিজের শক্তিগুলোকে কাজে লাগানোর সময়। আপনার ব্যক্তিগত সময় আপনি অন্যের সাহায্য ছাড়াই নিজেও মত সময় কাটান। এটি আপনার অধিকার।

১০। ধ্যান করুন
অবশেষে এত নিয়মের পর আপনি ধ্যান করতে ভুলবেন না। এটি আরাম করার সময়। আপনি ঘুমাতে পারেন কিংবা  কিছু সময়ের জন্য তন্দ্রা যেতে পারেন। আমি এই সময়ে প্রার্থনা করার চেষ্টা করি। ধ্যান দুশ্চিন্তা কমায় এবং আপনাকে সুখি হতে সাহায্য করে।

www.pexels.com


মনে রাখবেন, এগুলোর সমন্বয়েই আপনি একটি সুখি জীবন যাপন করতে পারবেন। আমাদেরকে জীবনের প্রত্যেকটি দিকই উপভোগ করতে হবে। এখানে কিছু নমুনা দেয়া হয়েছে মাত্র। আমি আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন মোবাইল ফোনের বাইরেও আমাদের অনেক বড় একটি জীবন রয়েছে। এটি মনে রাখুন আর একটি প্রোডাকটিভ জীবন যাপন করুন।
বিঃ দ্রঃ আমি বলছি না যে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার অলাভজনক কিন্তু আমাদের জীবনকে নান ধরনের কার্যকলাপের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের জীবনকে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আতকে রাখলে চলবে না। সবসময় আরও নতুন কিছু চিন্তা করুন। আপনাকে আপনার নিজের পরিনতি নিয়ে নিজেকেই ভাবতে হবে।

এখনও কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।