প্রেগন্যান্সির পর ওজন কমাবার ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায়

যে কোন নারীর জন্য সন্তানধারণের সময়টুকু অত্যন্ত আবেগপূর্ণ একটি মুহূর্ত। চমৎকার এই সময়টিতে নতুন অতীথিকে পুর্নাঙ্গ পুষ্টি ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে ওজন বেড়ে যাওয়াটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এই ওজন বাড়াটা শুধু যে স্বাভাবিক তাই নয়, বরং এটি নিশ্চিত করে আপনার বাচ্চার সঠিক বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে নিরাপদ জন্মদান প্রক্রিয়া পর্যন্ত।

তাই, গর্ভবতী নারীদের জন্য কিছুটা ওজন বাড়া বলা যায় নিরাপদ ও সহজাত প্রক্রিয়া। বেশিরভাগ পরবর্তীতে এই সময় এই ওজন ঝারাবার কাজটা নির্ভর করে শারীরিক গড়নের উপর। সাধারন গড়নের নারীদের জন্য ১-৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগে এই অতিরিক্ত ওজন কমাতে। কিন্তু, কিছুটা অতিরিক্ত ওজনের জন্য সময় লাগে এরও অনেক বেশি। ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটির প্রখ্যাত প্রফেসর ও পুষ্টিবিদ ডেব্রা ক্রুমেলের মতে এই ওজন কমানটা জরুরি কারন তা না হলে পরবর্তীতে এই অবস্থা পরবর্তি ১৫-২০ বছর অপরিবর্তিত থাকতে পারে।  (তথ্যসূত্রঃ https://www.webmd.com/diet/obesity/video/obesity-risks)

যদিও বেশিরভাগ ফিজিশিয়ান মনে করে সকল ধকল সামলাবার পর গর্ভপাতের পর ৪-৬ সপ্তাহ নিজেকে সময় দেওয়া উচিত। তারপর পর্যায়ক্রমে কিছু নিয়মিত পদ্ধতি অবলম্বন করে কমানো উচিত অতিরিক্ত এই ওজন। চলুন ওজন কমাবার জন্য কিছু সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি জানা যাক-

প্রচুর পরিমান পানি পান করুন

skinnyms.com

শুধুমাত্র গর্ভাবস্থায় নয়, বরং আমাদের জীবনে দৈনন্দিন প্রয়োজনে পানি পান করবার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। আর তাই, সুস্থ থাকতে দৈনিক ৮ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। যা আপনার হজমশক্তি বাড়াতে রাখে বড় ভুমিকা। এছাড়া, প্রতি ঘণ্টায় কিছুটা পানি পানে ক্ষুধা হ্রাশ পায়। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন হ্রাসের জন্য এটি একটি বড় ভুমিকা পালন করে।

নিয়মিত ব্যায়াম

https://www.rockettes.com

গর্ভকালীন সময়ে এক্সারসাইজ করাটা যতটা না জটিল তার চেয়ে বেশি কষ্টসাধ্য। তাই, এ সময়টাতে ভারি কাজকর্ম থেকে দূরে থাকতেই হয়। কিন্তু, সব শেষে শরীরকে ফিট ও চাঙ্গা রাখবার জন্য নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই।  বাচ্চাকে নিয়ে ঘরের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটোছুটিতেও কিন্তু নিজের অজান্তে ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, নিয়মিত কিছু সাধারন ব্যায়াম নিশ্চিত করবে আরও অতিরিক্ত কিছু ওজন ঝরানো। এছাড়া, শুধু ওজন কমাতেই নয় বরং আপনাকে চনমনে রাখতেও সাহায্য করবে রেগুলার এক্সারসাইজ।

 

ডায়েট নয়, খান স্বাস্থ্যসম্মত খাবার

ওজন কমাবার পথে সবচেয়ে বড় ভুল, ডায়েট। রিসার্চ বলে গর্ভপাতের পর ডায়েটের চেষ্টা হীতে বিপরীত হতে পারে, যাতে আপনি বাড়াতে পারেন আরও অতিরিক্ত ওজন। তাই, ওজন না বাড়াতে চাইলে পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।  এছাড়া, এমন অবস্থায় ডায়েট আপনার ও আপনার বাচ্চার জন্যও বয়ে আনতে পারে খারাপ ফলাফল।

ড্রিংক কিংবা কার্বনেটেড ড্রিংক পরিত্যাগ

শুধু মায়েদের জন্যই নয়, বরং সকল বয়সের মানুষের জন্য অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় অত্যন্ত ক্ষতিকারক। তাই, পরিত্যাগ করুন সকল প্রকার অ্যালকোহল পানীয়। এছাড়া, কোলা কিংবা কার্বনেটেদ ড্রিংক পান করাটাও অত্যন্ত জরুরি। যা, আপনার ওজন ঝরানো করে দেয় অনেক সহজ।

বেস্টফিড

www.pexels.com

এক্সপার্ট ও রিসার্চে প্রমাণিত, ব্রেস্টফিড ওজন কমাতে সাহায্য করে।  তবে এজন্য আপনাকে দৈনিক ২২০০ ক্যালরি নিতে হবে যা সাধারন ক্ষেত্রে হয়ে থাকে ১৮০০ ক্যালরি।   এছাড়া, আপনার বাচ্চার জন্য যেমন এটি অত্যন্ত দরকারি, ব্রেস্টফিডিং অত্যন্ত উপকারিও বটে।

 

নিয়মিত খাবার খাওয়া

নিশ্চিত করুন আপনার দৈনিক খাবারে প্রাধান্য সিন আঁশযুক্ত খাবারকে। সকালে নাস্তা করতে কখনো ভুল করা উচিত নয়।  নতুন মায়েদের জন্য এই জিনিশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা শিশুর খেয়াল রাখতে ও তার বেড়ে ওঠা নিশ্চিতে বড় ভুমিকা রাখে।

দরকার পর্যাপ্ত ঘুম

https://www.thebump.com

ঘুম নতুন মায়েদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ওজন কমাবার জন্য এক প্রধান অস্ত্র হচ্ছে পর্যাপ্ত ঘুম। সাধারনত তানা ৫ ঘণ্টার ঘুমকেই পরিমিত ধরা হয়। তবে, ব্যাক্তিভেদে এই সংখ্যা ৮-১০ ঘণ্টাও হতে পারে। রাতজাগা ওজন কমাতে না বরং বাড়াতে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখে। তাই, চেষ্টা করুন নিয়মাফিক পর্যাপ্ত ঘুমের।

জাঙ্কফুডকে বলুন না

http://foothilldragonpress.org

নামটাই যখন জাঙ্কফুড, তখন এই ধরনের খাবার থেকে দূরে থাকাই উত্তম। জাঙ্কফুড কিংবা ফাস্টফুড যে শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে আপনাকে তাই না, বরং আপনার ওজন কমাবার জন্য অনেক বড় একটি বাধা। গর্ভপাতের পর তাই এ ধরনের খাবার থেকে দূরে থাকাই উত্তম। তাই, পরিত্যাগ করুন ফাস্টফুড।

Seek professional help

http://www.lifemartini.com

একজন নতুন মায়ের জন্য নিয়মিত ডাক্তারের সাথে কন্সাল্ট করাটা জরুরি। আপনার স্বাস্থ্যগত ও আপনার বাচ্চার স্বাস্থ্যগত ব্যাপারের পাশাপাশি আপনার শারীরিক সমস্যার জন্য এটি জরুরি। আর আপনার ওজন কমাবার জন্যও আপনি কিন্তু আপনার নিয়মিত ডাক্তারের সাথে কন্সাল্ট করা যেতে পারে। এর ফলে একটি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে আপনি ওজন কমাতে পারেন।

ডায়েট পিলস ও সাপ্লিমেন্টকে বলুন না

http://www.doctoroz.com

অনেক সময়  বিভিন্ন চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন মানুষের পরামর্শে, ডায়েট পিলস ও তথাকথিত ওজন কমাবার সাপ্লিমেন্ট ব্যাবহার করা হয়। কিন্তু এই ব্যাপারটি অনেকক্ষেত্রে ক্ষ িতর কারন। কারন পিলস ও সাপ্লিমেন্ট শুধুমাত্র আপনার ওজন কমাবার অন্যান্য চেস্টাকে তরান্বিত করবে। তাই, ডায়েট পিলস দিয়ে আপনি আপনার ওজন কমাবার চেষ্টাকে বাতিলের খাতায় ফেলতে পারেন।  একজন নতুন মায়ের জন্য ডাক্তারের নির্দেশ ছাড়া এটি ব্যাবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পিলস কিংবা সাপ্লিমেন্টের ব্যাবহার তাই কমানো উচিত। তাই, নিরাপত্তার খাতিরে ডায়েট পিলস ও তথাকথিত ওজন কমাবার সাপ্লিমেন্ট বন্ধ করা উচিত।

 

 

 

Reference

https://www.webmd.com/baby/features/8-tips-for-losing-weight-after-pregnancy#1

https://www.modernmom.com/a485b146-3b45-11e3-8407-bc764e04a41e.html

The Risks and Disadvantages of Taking Diet Pills

এখনও কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।