নিজেকে সুস্থ রাখবার ৮টি উপায়

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টা অত্যন্ত কঠিন একটি সময় যদি আপনি নিজেকে সবসময় সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে চান। ঠাণ্ডা, জ্বর, সর্দিসহ সকল ধরনের সিজনাল অসুস্থতা শুরু হয় ঠিক এই সময়টাতে। যদিও নিজেকে সুস্থ রাখতে কিছু সাধারণ নিয়ম আমরা মেনে চলতে পারি। যেমন, হাত ধোয়া, পর্যাপ্ত পানি খাওয়া থেকে শুরু করে পর্যাপ্ত ঘুম। কিন্তু, কিছু উপায়ে আপনি এসবের পাশাপাশি বাড়িয়ে নিতে পারেন নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।   কিভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

১. ভ্যাক্সিন নেওয়া 

ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে নিজের শরীরকে জ্বর থেকে দূরে রাখতে পারবেন। বিভিন্ন হাসপাতালে ও ক্লিনিকে এখন পাওয়া যায় অ্যান্টি ফিভার ভ্যাক্সিন। যার মাধ্যমে আপনি দূরে থাকতে পারবেন জ্বর থেকে। এছাড়া, এটি আপনাকে দূরে রাখবে ঠাণ্ডা সর্দি থেকে। বাহিরের দেশে এটি খুব কমন হলেও আমাদের দেশে এটি এখনো নতুন। তাই, ইঞ্জেকশনের সুঁই ভয় না পেলে নিতে পারেন ভ্যাক্সিন।

 

2. পরিস্কার কিংবা Disinfect করুন আপনার দৈনিক ব্যবহার করা জিনিশগুলো

ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে আছে সবখানে। সাধারনত আমাদের খালি চোখে না দেখতে পারবার সুযোগে এটি ছড়িয়ে থাকে উষ্ণ কিংবা আমাদের প্রাত্যহিক ব্যাবহার করা জিনিশগুলোতে। যেমন আপনার স্মার্টফোনে। একটি স্মার্টফোনে যে পরিমানে জার্ম ছড়িয়ে থাকে তা হতে পারে আপনার অসুস্থতার কারন। তাই, বাজার পাওয়া disinfecting wipes দিয়ে সপ্তাহে অন্তত ৩ বাড় পরিষ্কার অরুন আপনার ফোনটি। আপনি চাইলে তা দৈনিকও করতে পারেন।

এছাড়া, আপনার রিমোট, দরজার হাতল, ল্যাপটপ, মাউস, কি-বোর্ড থেকেও ছড়াতে পারে এসব জীবাণু। তাই, চেষ্টা করুন এসকল নিত্য ব্যবহার করা জিনিশ পরিস্কার করবার। দরকার পরলে এসব পরিস্কার করবার পদ্ধতির জন্য সাহায্য নিন ইন্টারনেটে। আর এর মাধ্যমে আপনি কমিয়ে আনতে পারবেন অসুস্থ হবার সম্ভাবনা।

 

৩. অতিরিক্ত মিষ্টিকে বলুন না 

এই সময়টাতে নিজের শরীরকে ফিট রাখবার জন্য মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য যেমন সোডা, কেক, মিষ্টি, চকলেট থেকে থাকুন দূরে। চাইলে সীমিত সময়ের জন্য এশব খাবার বাদ দিতে পারেন আপনার খাবারের তালিকা থেকে। চিনি আপনার white blood cell-কে বাধা দেয় আপনার শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে ধ্বংস করতে। যা আপনার রোগ প্রতিরধ ক্ষমতাকে করে আরও দুর্বল। তাই, চিনি থেকে থাকুন দূরে।

 

৪. নিজের পাকস্থলির কথা শুনুন 

আমাদের  প্রতিরোধ খমতার সিংহভাগি থাকে পাকস্থলিতে।  উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা আমাদের সাহায্য করে সুস্থ থাকতে, জুড়ে থেকে আমাদের পাকস্থলিতে। কিন্তু, অস্বাস্থ্যকর খাবার নেবার মাধ্যমে আমরা তার শক্তি কমিয়ে ফেলি নিজের অজান্তেই। যা পড়ে মোড় নেয় বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি যেমন জ্বর, ঠাণ্ডা ইত্যাদিতে।  তাই, নিজের শরীরকে বুঝতে শিখুন। প্রোবায়োটিক খাবার আর নিন ফাস্ট ফুডের বদলে। যা আপনাকে সাহায্য করবে এই সময়টাতে সুস্থ ও চনমনে থাকতে।

৫. বদ অভ্যাস পরিতাগের এটাই সময় 

অনেকেই আছেন চোখ কামড়ানো থেকে শুরু করে নানান বদ অভ্যাসে আসক্ত। আর এই ধনের সমস্যাগুলো এই টাইমে হতে পারে আত্মঘাতী। কারন, নখের থেক ছড়াতে পারে জার্ম, যা আপনাকে করে তুলে অসুস্থ। আর নিজেকে সুস্থ রাখতে এই বদ অভ্যাসটিকে বলুন বাই বাই চিরদিনের জন্য।

 

৬. করুন পর্যাপ্ত এক্সারসাইজ 

এক্তি৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার এক্সারসাইজ সেশনের পর, আপনার শরীর হয়ে ওঠে অত্যন্ত দুর্বল। আর এই সময়টাতেই আক্রমন করতে পারে নানান রোগ ব্যাধি। তাই, ডাক্তারদের মতে এক্সারসাইজের পরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি। যাতে আপনার শরীর রিকভার করতে পারে দ্রুত সময়ের মধ্যে। তাই, শরীরে উপর জোর না খাটিয়ে করুন পর্যাপ্ত এক্সারসাইজ। শেষ কথা হচ্ছে নিজেকে সাধ্যের বাহিরে না নিয়ে যাওয়া।

 

৭. অসুস্থ বন্ধু ও কাছের মানুষ থেকে সাবধান 

হাচি কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে নানান অসুখ। তাই, অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকাটাই উত্তম। এছাড়া, সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত রাস্তায় চলবার সময়টাতে। রুমাল, ফেইস মাস্ক ব্যাবহার করা উচিত যাতে অন্যের ভাইরাস না এসে ভিড় করে আপনার শরীরে। তাই, একটু সতর্ক থাকতে হবে প্রাত্যহিক চলাফেরায়।

৮. বাহিরে কাটান কিছুটা সময় 

শীতকাল বলে যে বাহিরে যাওয়া যাবে না তা কি হয়? শীতের মিষ্টি রোদের পরশ নিতে কিছুটা সময় বাহিরে কাটানো উত্তম। এতে আপনার শরীর যেমন সকালের রোদের ভিটামিন ডি পাবে তেমনি আপনি অনুভব করবেন আরামদায়ক উষ্ণতা। তাই, চার দেয়ালের মাঝে সারাটা দিন না থেকে কিছুটা সময় না হয় বাহিরে প্রকৃতির সাথেই কাটুক।

 

 

Sources:

https://www.prevention.com/health/health-concerns/how-doctors-avoid-sickness

https://pxhere.com/

https://pixabay.com/

এখনও কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।