গ্র্যাজুয়েশন দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখবার জন্য ৭টি টিপস

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয় গ্র্যাজুয়েশন ডে-তে টুপি আকাশে ছুঁড়ে মারার মাধ্যমে। অনেক ত্যাগ আর অনেক পরিশ্রমের বিনিময়ে পাওয়া এই দিনটিতে যে শুধু শেষ হয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন তাই কিন্তু নয়। বরং, পেছনের ৪ বছরের পরিশ্রমের পর তা সেলিব্রেট করাটাও একটি মুখ্য উদ্দেশ্য। এছাড়া, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সাথে ফ্রেশভাবে নতুন জীবন শুরু করার মুহুর্ত এই দিনটি। আর এই দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে রাখবার জন্য ৭টি টিপস শেয়ার করা হল-

 

১. সব কিছু প্রস্তুত রাখুন আগে থেকে

গ্র্যাজুয়েশনের মতন এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে আগে থেকেই আপনার প্রস্তুত থাকাটা উচিত। তাই, গ্র্যাজুয়েশনের আগের দিন আপনাকে মেকাপ, ড্রেসআপ আর সকল প্রকার প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। যা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। এছাড়া, এ ধরনের প্রস্তুতি আপনাকে যে কোন রকমের দেরি থেকেও রাখবে দূরে। আর পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় যে কোন এডজাস্টমেন্টও আপনাকে দেবে অনেকখানি সময়।

২. ব্যাবহার করুন ছোট পাইচ/ ব্যাগ

এটি অত্যন্ত বাস্তবিক একটি ব্যাপার। গ্র্যাজুয়েশনের দিনে সবাই গ্র্যাজুয়েশন কোট কিনবা Togas পরিধান করে থাকে। আর এতে থাকে না কোন পকেট। আর বেশিরভাগ গ্র্যাজুয়েশনে বড় কোন ব্যাগ ব্যাবহার করবার নিয়ম নেই। ফলে টাকা, মোবাইল, মেকাপ ছাড়াও টুকিটাকি দরকারি সকল সামগ্রির জন্য ছোট একটি পাউচ ব্যাবহার করা যায়। যাতে আপনি একই সাথে স্বল্প জায়গায় এসব রাখতে পারবেন।

৩. উপভোগ করুন প্রতিটি মুহূর্ত

অত্যন্ত জরুরি একটি ব্যাপার হল উপভোগ করা এই দিনটি। অনেকেই এই দিনটি নিয়ে বেশি এক্সাইটেড থাকেন। ফলে মুহূর্তগুলো উপভোগ করার বদলে কোথায় যে শেষ হয় তা বোঝা যায় না। তাই, অতিরিক্ত উত্তেজিত না হয়ে হয়ে বরং উপভোগ করুন সবার সাথে, প্রতি মুহুর্ত। আপনার বাবা-মা, যারা এই দীর্ঘ পথে আপনাকে দিয়েছে সবটুকু সাপোর্ট। আপনার বন্ধু, শিক্ষক কিংবা পরিচিত মুখগুলো, যারা এই সময়টাতে আপনাকে সাপোর্ট দিয়ে আপনাকে নিয়ে এসেছে এতদূর। ছাত্র জীবনের চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে নতুত এই যাত্রার শুরুটা হোক এভাবেই। 

৪. হাসুন প্রানখুলে সবার সাথে

হাসুন এই দিনটিতে। সবার লম্বা বক্তৃতার মাঝে পুরোটা হাসাটা কঠিন শোনালেও অসম্ভব নয়। এই দিনটি আপনাকে দিচ্ছে চমৎকার একটি মুহুর্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সাথে। আর পুরোটা সময় মুখ কালো করে থাকার কোন মানেই হয় না। তাই, পজিটিভ থাকুন, আর মুখে ফুটিয়ে রাখুন আপনার চমৎকার হাসি।

৫. মুহূর্তগুলোর ছবি তুলুন

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ এটি। এটি একটি বিশেষ দিন আপনার ও আপনার আশেপাশের সবার জন্য। তাই, এই দিনটির মুহুর্তগুলোর ছবি তুলুন পুরোটা সময়। অনেক সময় পর যখন এই ছবিগুলো দেখবেন, তখন পিছনের দিনগুলো স্মরণ করে ঠিকই আপনার মুখে হাসি ফুটবে। 

৬. চিঠি কিংবা চিরকুট দিন শিক্ষক আর কাছের বন্ধুদের

এই দিনটি নিজ লক্ষের দিকে সামনে এগিয়ে যাবার দিন। আর এটি অসম্ভব হত আপনার শিক্ষক ও বন্ধুদের সাপোর্ট ছাড়া। যারা আপনাকে এই চার বছরে প্রস্তুত করতে সাহায্য করেছে সবচেয়ে বেশি। তাই, তাদের চমৎকার একটি চিরকুট কিংবা চিঠির মাধ্যমে জানাতে পারেন ধন্যবাদ। কার্ড কিংবা চিঠির মাধ্যমে জানান তারা আপনার জীবনের কতটা আশির্বাদ বয়ে এনেছে। আর এই সিম্পল ট্রিবিউটের মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, এই মানুষগুলোর মুখে আপনি কিছুটা হাসি এনে দিতে পারবেন।

৭. পরিবারকে সময় দিন

শেষ টিপস হল, আপনার পরিবার। হ্যাঁ, সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে সময় দিন আপনার পরিবারকে। সবাইকে নিয়ে খেতে যান আপনার পছন্দের রেস্টুরেন্ট, কিংবা শপিং-এ যেতে পারেন তাদের সাথে। উপভোগ করুন প্রতিটি মুহুর্ত। চার বছরের পরিশ্রমের পর তাদের কিছুটা সময় দেওয়াটা যে তাদের জন্যই আনন্দের তা নয়, বরং আপনাকেও সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

 

এখনও কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।